বিড়াল পালনের ইতিহাস খুবই প্রাচীন। মানুষের সাথে বিড়ালের সম্পর্ক যুগ যুগ ধরে। এটি ধারণা করা হয়, যে প্রাচীনকালের মানুষেরা বন্ধুত্বের জন্য বিড়াল পালন করত।
বিড়াল প্রাথমিকভাবে পালন শুরু হয় পশ্চিম এশিয়ায়। বিভিন্ন সময় ও যুগে বিড়াল পালন বিশেষ ভাবে পরিলক্ষিত যেমন মিশর, গ্রিস, রোমান সভ্যতা ইত্যাদি। বিড়ালের সম্পর্কে বিভিন্ন প্রাচীন সংস্কৃতিতে উল্লেখ রয়েছে। সেই সময়ে বিড়ালদের রাজকীয় ও ধর্মীয় প্রতীকতা হিসেবেও ব্যবহার করা হত। প্রাচিন মিশরে বিড়াল কে দেবী হিসেবে মানা হতো। এমনকি বিড়াল এর জন্য তৈরী হয়েছিলো ছোট বড় মন্দির। সে যুগে মিশরে বিড়াল হত্যা দন্ডনিয় অপরাধ হিসাবে দেখা হতো এবং তারা বিশ্বাস করতো বিড়াল এর অভিশাপে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবার সম্ভবনাও রয়েছে। প্রাচীনকালে বিড়ালের মৃত্যু হলে সমারোপণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হতো এমনকি বিড়াল এর মমি করে রাখা হতো।
মধ্যযুগে বিড়াল পালন পদ্ধতি অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে যায়। ইসলামিক সভ্যতার মধ্যে বিড়াল দের খুব ই পবিত্র প্রানী হিসাবে মানা হয় বলে ঘোষণা করা হয়।
আধুনিক যুগে বিড়াল পালন আরও সাধারণ হয়ে এসেছে।আগের মত বিড়ালের পূজো করা অথবা মমি করা না হলেও এখন বিড়াল মানুষের জীবনে অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। এই যুগে বিড়াল হয়ে উঠেছে মানুষের নিত্যদিনকার বন্ধু। বাচ্চা দের সংগী হিসেবে বিড়াল এখন খুব পছন্দনীয়।
বিড়াল পালনের ইতিহাস মানব সভ্যতায় খুব ই প্রাচীন। তবে যখন যেমন ভাবে থাকুক না কেনো সব সময় ই বিড়াল মানুষের জীবনে অতপ্রত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে তা মোটেও কিন্তু অস্বিকার করা যায় না।
